রাজনীতির আয়না: আপনি কি নেতার পকেটে নাকি নিজের বিবেকের সাথে?
রাজনীতির আয়না: আপনি কি নেতাকে দেখছেন, নাকি নিজের ধ্বংসকে?
আজকের এই লেখাটি পড়ার সময় আপনার প্রিয় রাজনৈতিক দলের ঝাণ্ডাটি একপাশে সরিয়ে রাখুন। আপনি হিন্দু হোন বা মুসলিম, একবার আয়নার সামনে দাঁড়ান। যে নেতাকে আপনি আপনার রক্ষাকর্তা মনে করছেন, তিনি কি সত্যিই আপনার ভবিষ্যৎ গড়ছেন, নাকি আপনার আবেগকে পুঁজি করে নিজের ক্ষমতার তখত সাজাচ্ছেন?
আসুন, কিছু নির্মম সত্যের মুখোমুখি হওয়া যাক।
১. ভয়ের বাজার ও রাজনীতির কারবার।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন দাঁড়িয়ে আছে 'ভয়' বিক্রির ওপর।
- হিন্দুদের বলা হচ্ছে: "তোমরা বিপদে আছো, তোমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে অমুক দলকে ভোট দাও।"
- মুসলিমদের বলা হচ্ছে: "বিজেপি আসছে, তোমাদের এনআরসি (NRC) করে তাড়িয়ে দেবে। আমাদের ভোট না দিলে তোমরা বাঁচবে না।"
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন: গত এক দশকে এই ভয়ের রাজনীতি আপনাকে কী দিয়েছে? আপনার ঘরের শিক্ষিত ছেলেটি কি চাকরি পেয়েছে? বাজারের আগুন কি কমেছে? যদি উত্তর 'না' হয়, তবে বুঝবেন আপনাকে দিয়ে কেবল 'ভোটের সমীকরণ' মেলানো হচ্ছে।
২. দ্বিমুখী নীতি: ধর্মের নামে যখন দাবার চাল।
একই রাজনৈতিক দল যখন সরকারি টাকায় মন্দির বানায় এবং সেই দলেরই একজন মুসলিম নেতা যখন বাবরি মসজিদের নামে নতুন আবেগ তৈরি করার চেষ্টা করেন, তখন আপনি কী দেখেন?
এটি কোনো ধর্মের প্রতি প্রেম নয়, এটি হলো 'ভোটের ম্যাচ ফিক্সিং'। মুসলিমদের আবেগ নিয়ে তারা খেলছে, আর আপনি সেই খেলায় ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তখন সেই মুসলিম নেতাকেই আবার দল থেকে ছুড়ে ফেলা হয়।
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন!
প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল এবং আপডেট সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে পেতে আমাদের চ্যানেলে যুক্ত হোন।
WhatsApp চ্যানেল ফলো করুন৩. দুষ্ট মানুষের রাজত্ব বনাম আমাদের অবহেলা।
আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো, আমরা 'নেতা' খুঁজি টিভির পর্দায় বা জনসভার মঞ্চে। আমরা দেখি কারা চড়া গলায় ভাষণ দিচ্ছে, কারা অন্য ধর্মকে গালিগালাজ করছে। অথচ এই দুষ্ট মানুষগুলোই যখন সামনে বড় নেতা সেজে দাঁড়ায়, আমরা অন্ধভাবে তাদের পেছনে লাইন দিই। কেন আমরা আমাদের পাশের বাড়ির সেই ছেলেটিকে দেখি না?
- যে ছেলেটি বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়।
- যে ছেলেটি শিক্ষিত, মার্জিত এবং সৎ পথে চলে।
- যার হৃদয়ে আল্লাহর ভয় (তাকওয়া) বা মানুষের প্রতি প্রকৃত মমতা আছে।
আমাদের প্রয়োজন বড় কোনো 'তারকা' নেতা নয়, বরং আমাদের পাশের বাড়ির সেই ভালো ছেলেটিকে সাহস দেওয়া। তাকেই উৎসাহিত করতে হবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কারণ, সৎ মানুষ রাজনীতিতে না আসলে দুষ্টরাই আপনার এবং আমার ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
৪. আল্লাহর মানদণ্ড: রাজত্ব কি কেবল ভোটের হিসাবে আসে?
আমরা ভাবি ক্ষমতা কেবল টাকা আর পেশী শক্তিতে আসে। কিন্তু আপনার বিশ্বাস যদি হয় কুরআনের ওপর, তবে মনে রাখবেন আল্লাহর একটি নিজস্ব 'মানদণ্ড' আছে। সূরা আন-নূর-এর ৫৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পরিষ্কার বলেছেন তিনি কাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দেবেন:
- খাঁটি ঈমান: যারা নেতার মিথ্যে আশ্বাসের কাছে নিজের নীতি বিক্রি করে না।
- সৎকর্ম (নেক আমল): যারা সমাজে ইনসাফ কায়েম করে এবং মানুষের নিরাপত্তা দেয়।
- আমানতদারিতা: যারা জনগণের সম্পদকে নিজের পকেটে ভরে না।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে আবার প্রশ্ন করুন: আমরা কি এমন নেতৃত্ব খুঁজেছি? আমরা নিজেরা কি ১০% মুমিন হতে পেরেছি? আল্লাহ তখনই একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেন, যখন সেই জাতির মানুষ নিজেরা সৎ হয়। কারণ—"যেমন জনগণ, তেমন তাদের শাসক।"
৫. 'মসজিদে জিরার' ও বর্তমানের ষড়যন্ত্র।
ইতিহাস সাক্ষী, ইসলামের যুগেও একদল লোক 'মসজিদ' বানিয়েছিল মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে (সূরা তাওবা: ১০৭)। বর্তমানের রাজনীতিতেও অনেক 'মসজিদ' বা 'মন্দির' প্রকল্প আসলে ইবাদতের জন্য নয়, বরং ফিতনা বা ভোট ভাগ করার জন্য তৈরি হয়। যখন কোনো নেতা মসজিদের আবেগ দেখিয়ে নতুন দল ঘোষণা করেন, তখন তলিয়ে দেখুন—তিনি কি আপনার অধিকার আদায়ের জন্য এসেছেন, নাকি আপনার ভোট ভাগ করে অন্য কাউকে সুবিধা করে দিতে এসেছেন?
উপসংহার- আজকের রাজনীতি আমাদের জন্য কোনো সমাধান নয়। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বা ভয়ের রাজনীতির চেয়ে বড় সত্য হলো আমাদের দারিদ্র্য ও বেকারত্ব। যতক্ষণ আমরা ধর্মের ফাঁদে পা দেব, ততক্ষণ এই রাজনৈতিক অভিনেতারা আমাদের হাসাবে এবং শেষে আমাদেরই রক্তে হাত রাঙাবে।
এখনই সময় আয়নার সামনে দাঁড়ানোর। দাবার ঘুঁটি হয়ে থাকবেন, নাকি আপনার পাশের সেই সৎ ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে মাথা তুলে দাঁড়াবেন? সিদ্ধান্ত আপনার।
"আপনার কি মনে হয়? পাশের বাড়ির সৎ ছেলেটি কি পারবে আমাদের ভাগ্য বদলাতে?"
আরও পড়ুন- ভারতীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও সূরা তাওবার সঠিক প্রেক্ষাপট।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন